যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

এক সন্ন্যাসী বিজ্ঞানী - সৌম্য ঘোষ

 

story and article


আচার্য স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায় যিনি পি সি রয় নামেও সম্যক খ্যাত , অবিভক্ত বাংলার যশোর জেলায় ২রা আগস্ট, ১৮৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন ।

তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি রসায়নবিদ ,শিক্ষক ,দার্শনিক ও কবি । তিনি বেঙ্গল কেমিক্যালস এর প্রতিষ্ঠাতা ও মারকিউরাস নাইট্রাইট এর আবিষ্কারক । বৈজ্ঞানিক জগদীশচন্দ্র বসুর সহকর্মী ।

এক ভূস্বামী পরিবারে তাঁর জন্ম ।বাবা ছিলেন হরিশ চন্দ্র রায় ।এক ছোট মাপের জমিদার ।গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে কলকাতায় চলে আসেন ।১৮৭০ সালে হেয়ার স্কুলে ভর্তি হন ।

পরে আলবার্ট স্কুলে ভর্তি হন । ১৮৭৮ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ।অতঃপর বিদ্যাসাগর প্রতিষ্ঠিত মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশনে ( বর্তমানে বিদ্যাসাগর কলেজ ) ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৮৮০ সালে এফ. এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ।

প্রেসিডেন্সি থেকে গ্রিলক্রিস্ট বৃত্তি পেয়ে তিনি স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করতে যান ।

সেখান থেকে তিনি বিএসসি পাশ করেন ।পরবর্তীকালে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়েই ডিএসসি লাভ করেন । তাঁর গবেষণার Thesis —— conjugated sulphates of copper magnesium group ——- A Study Of Isomorphous Mixture And Molecular Combination . এই সফল গবেষণায়

তিনি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন ।এমনকি তাঁর গবেষণা পত্রটি শ্রেষ্ঠ মনোনীত হওয়ায় তাঁকে Hope Prize –‌ এ ভূষিত করা হয় ।

দেশে ফিরে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। অধ্যাপনা কালে তাঁর প্রিয় বিষয় ছিল ——– রসায়ন। তিনি নিত্যনতুন গবেষণা চালিয়ে যান । তাঁর উদ্যোগে Bengal Chemical কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয় ।

১৮৯৫ সালে তিনি মারকিউরাস নাইট্রাইট ( Hg NO2) আবিষ্কার করেন ।যা তাঁকে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি এনে দেয়।

তিনি তাঁর সমগ্র জীবনে মোট ১২ টি যৌগিক লবণ এবং ৫টি থায়োএস্টার আবিষ্কার করেন । সমবায়ের উল্লেখযোগ্য পুরোধা পিসি রায় ১৯০৯ সালে নিজ জন্মভূমিতে একটি Co-operative Bank প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯০৩ সালে পিতার নামাঙ্কিত R.K.B.K. HARRISH CHANDRA School প্রতিষ্ঠা করেন ।

১৯০২ সালে প্রফুল্ল চন্দ্র তাঁর বিখ্যাত History Of Hindu Chemistry গ্রন্থটি প্রকাশ করেন ।বইটির ব্যাপক জনপ্রিয়তায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯০৯ সালে বইটির দ্বিতীয় খন্ড প্রকাশ করেন।

ব্রিটিশ সরকার ১৯১৯ সালে তাঁকে রাজকীয় খেতাব নাইট উপাধি প্রদান করেন । ১৯১৬ সালে তিনি নবগঠিত “ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স -“- এ যোগদান করেন এবং ১৯২০ INDIAN SCIENCE CONGRESS GENERAL — এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ।

১৯৩২ সালে তাঁর আত্মজীবনী LIFE AND EXPERIENCE OF A BENGALI CHEMIST — এর প্রথম খন্ড এবং ১৯৩৫ সালে দ্বিতীয় খন্ড প্রকাশিত হয় ।অবসর গ্রহণের পর তিনি আমৃত্যু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস প্রফেসর হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন । ১৯৪৪ সালে ১৬ ই জুন , ৮২ বছর বয়সে এই সন্ন্যাসী বিজ্ঞানী সজ্ঞানে স্বর্গযাত্রা করেন ।।

#সৌম্য_ঘোষ_চুঁচুড়া।

#storyandarticle


Post a Comment