যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

এক বিদেশি জুতোর গপ্পো - কলমে : সোমনাথ চ‍্যাটার্জ্জী

 
story and article

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে যখন নামলাম বেশ সকাল। হাল্কা ঠান্ডা। স্টেশনেই ব্রাশ করে নিয়ে বাইরে এলা‌ম চারবন্ধু। তখন কলেজে ফার্স্ট ইয়ার। যাব দার্জিলিং ফেরার পথে জলদাপাড়া ও ফুন্টশোলিং ভুটান। ওয়েস্ট বেঙ্গল টুরিজিমে বুক করা। সবারই একটি ক‍রে ছোট লাগেজ। অক্টোবর মাস। পুজো সবে শেষ হয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে প্রথমে ট্রেকারে দার্জিলিং যাবো। ওটা অবশ্য ট‍্যুরের প‍্যাকেজে নেই।

পরনে ফুলস্লিভ টিশার্ট, জিন্স আর পায়ে হাওয়াই চটি। কারন, শুনেছিলাম শিলিগুড়ির হংকং মার্কেটে বিদেশি সব জিনিস খুব সস্তায় পাওয়া যায়। ওখান থেকে বিদেশি জুতো কিনে ঘুরবো বলে হাওয়াই চটি পরে কলকাতা থেকে এসেছি। তখন বিদেশি জিনিস এখনকার মতো বাজারে অঢেল ও সহজলভ্য ছিলনা। যদিও কলকাতার খিদিরপুরে ফ‍্যান্সি মার্কেট ছিল বিদেশি দ্রব্যের বাজার।

তবে সেখানে কোনদিন যাওয়া হয়ে ওঠেনি ঠকে যাবার ভয়ে। কেউ কেউ ঠকাতে ওস্তাদ আবার কেউ ঠকতে ওস্তাদ। আমার নাম কেউ যেন ওই দ্বিতীয় দলেই লিখে দিয়েছিল। যাইহোক আমরা অটো নিয়ে পৌঁছে গেলাম হংকং মার্কেট। নানা রকম জিনিস। সবই বলছে ইমপোর্টেড। একটা জুতো পছন্দ হলো। কেউ বলে দিয়েছিল যা বলবে তার অর্ধেকেরও কম দাম বলবি। ওই ফর্মুলায় দরদাম করে ইমপোর্টেড জুতো কিনে পায়ে গলিয়ে নিলাম সঙ্গে বিদেশি মোজা। জুতোর ভিতরে একটা স্টিকার লাগানো ছিল । কিছু দুর্বোধ্য ভাষা ও ইংরেজিতে ‘মেড ইন চায়না’ লেখা। অন্য বন্ধুরা কেউ ব‍্যাগ, জ‍্যাকেট কিনলো। হাওয়াই চটিজোড়া কাগজে মুড়ে ব‍্যাগে চালান করলাম। হেঁটে একটু ট্রায়াল দিলাম। ইমপোর্টেড জুতো বলে কথা!

ট্রেকারে উঠে বসলাম চার বন্ধু। গাড়ি পুরো ভরলে তবে ছাড়বে। অতএব অপেক্ষা। তখন বাজেট কম। সবাই টিউশনির টাকা জমিয়ে বেড়াতে চলেছি। আশির দশকের শুরু। তখন টিউশনি করে খুব বেশি পাওয়া যেতনা। আশি,একশ বা খুব বেশি হলে দেড়শো দুশো টাকা। তাই অনেক। আমাদের মধ্যে তখন একটা কথার চলন ছিল যে যদি কোনো বন্ধু টিউশনির সন্ধান দিয়ে জিজ্ঞেস করতো ‘কত মাইনে নিবি?’ মজা করে উত্তরে বলা হতো ছাত্র হলে দেড়শো আর ছাত্রী হলে “ছাত্রীই বিবেচ‍্য”।

টিউশনি করতে গিয়ে পড়ানোর মুড ঠিক হয়ে যেত সেই বাড়ির আপ‍্যায়নে। কোনো বাড়িতে চা বিস্কুট দিত , কেউ চা ওমলেট, কোনো বাড়িতে আবার মাঝে মধ্যে ভাল জলখাবার দিত। পরোটা সঙ্গে সাদা আলু চচ্চড়ি। আহা! মন দিয়ে পড়ানো কাকে বলে। এক ঘন্টার জায়গায় আরও পনেরো কুড়ি মিনিট এক্স্ট্রা। আবার কেউ কেউ শুধু মাত্র জল দিয়েই দায়িত্ব সারতো। কি কিপটে রে বাবা, একটু চা তো দেওয়াই যেত। পাশ করার পর মাস্টার মশাইদের পরের বছর ইনক্রিমেন্ট সেরকম হতোনা। এক ছাত্রের কথা মনে আছে। ছেলেটি সিক্সে বা সেভেনে পড়তো ঠিক মনে নেই।

তাদের আইসক্রিমের ব‍্যবসা ছিল। যে কোনো সাবজেক্ট আইসক্রিম দিয়ে বোঝাতে হতো। বিশেষ করে অংক। সবকিছুই আইসক্রিমে কনভার্ট করতে হতো। একটা আইসক্রিমের পেটিতে কুড়িটা আইসক্রিম থাকলে পঞ্চাশটা পেটিতে কটা থাকবে আর বারোটা আইসক্রিম গরমে গলে গেলে তাহলে মোট কতগুলো আইসক্রিম রইলো ইত্যাদি টাইপের। ভুগোলে তুন্দ্রা অঞ্চলের ঠান্ডা বোঝাতে আইসক্রিম, বিজ্ঞানে জল থেকে বরফ আবার তরলে পরিবর্তন বোঝাতে আইসক্রিম। মানে সবকিছুতেই আইসক্রিম আনতেই হতো। বুঝতে পারার গন্তব্যে পৌঁছনোই বড় কথা, সে যে কোনো পথ ধরেই হোক না কেন।

ট্রেকার ছাড়লো দার্জিলিংয়ের উদ্দেশ্য। পাহাড়ি পথ। ঘুরে ঘুরে উঠছে। প্রথমবার যাচ্ছি। শুকনা পেরোতেই বেশ ঠান্ডা শুরু হল। চারিদিকে অপূর্ব সবুজের প্রলেপ। বেলা চারটে নাগাদ পৌঁছলাম। আকাশের মুখ গম্ভীর। বোঝা যাচ্ছে একটু আগেই বৃষ্টি হয়ে গেছে। হৈ হৈ করে নেমে সস্তার হোটেল খুঁজতে বের হলাম। বেশ কয়েকটি দেখার পর একটা হোটেল ঠিক হল। ভাড়া আমাদের বাজেটের মধ্যে। একটাই রুম। ব‍্যাগপত্তর রেখে চা খেয়েই বেরিয়ে পড়লাম আশপাশ দেখতে। ম‍্যালের দিকেই যাচ্ছিলাম কিন্তু একটু পরেই ঝেঁপে বৃষ্টি এল। একটা কিউরিও শপের শেডে সাময়িক আশ্রয়।

শুনে ছিলাম পাহাড়ের আবহাওয়া এমনই হয়। হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি আবার রোদ। তবে সেদিন রোদের দেখা নেই। আকাশ কালো। বৃষ্টির থামার লক্ষণ নেই। মহা মুশকিল। পায়ে নতুন বিদেশি জুতোর কি হবে। জলকাদা লেগে প্রথম দিনেই সর্দি কাশিতে না পড়ে। গায়ে মাথায় জল লাগুক ক্ষতি নেই কিন্তু বিদেশি জুতোর গায়ে যেন জল না লাগে। বৃষ্টি একটু কমতেই দৌড়ালাম হোটেলের রুমে। বেশ কনকনে ঠান্ডা সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। জামাকাপড় বদলিয়ে বসলাম তাস খেলতে সঙ্গে গরম সিঙাড়া আর চা। রাতের খাবারের অর্ডার নিয়ে গেল। বৃষ্টি হয়ে চলেছে।

পরেরদিন সকালে ঘুম ভাঙলো বেশ বেলায়। চারিদিকে কিরকম কুয়াশার মতো। কাচের জানলার পর্দা সরিয়ে অপর প্রান্তে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। কি ঝামেলা। এভাবে বৃষ্টি চললে আমাদের ঘোরা সব পন্ড। হোটেলের ছেলেটি বলল পাহাড়ের অনেক জায়গায় ধস নেমেছে। শিলিগুড়ির রাস্তা বন্ধ। পাল্লা দিয়ে ঠাণ্ডা বাড়ছে। দুদিন হোটেলের রুমে আটকে। তাস খেলে কাটলো। তৃতীয় দিন বেলার দিকে বৃষ্টি থামতেই দৌড়ালাম বাসস্ট্যান্ডে। খবর নিতে যে শিলিগুড়ির যাবার বাস সার্ভিস শুরু হল কিনা। বলা হল ধ্বস মেরামতির কাজ চলছে বিভিন্ন জায়গায়। সব ঠিক হলে তবে বিকেল চারটে নাগাদ একটা বাস ছাড়তে পারে। বৃষ্টি পাততাড়ি গুটিয়েছে। রুমের জানলা দিয়ে দেখলাম সামনেই ঝকঝকে পাহাড়ের দৃশ্য। এই দুদিন কিছ্ছু দেখা যায়নি।

দুপুরের খাওয়া সেরেই হোটেল ছাড়লাম। বাসস্ট্যান্ডে অল্প কিছু লোকজন। সবই স্থানীয়। বাস ছাড়বে তবে রাস্তার অবস্থা ভালো নয়। শিলিগুড়ি কখন পৌঁছবে বলা যাবেনা। আমাদের ফিরতেই হবে কারন পরের দিন সকাল দশটায় দুদিনের জলদাপাড়া ফুন্টশোলিং ট‍্যুর। আমাদের বুকিং করা আছে। অতএব বাসে উঠে পড়লাম। প্রায় ফাঁকা। পনেরো ষোলো জন প‍্যাসেঞ্জার। ট‍্যুরিস্ট বলতে আমরা চারজন বাকিরা স্থানীয়।

বাস খুব ধীর গতিতে চলতে শুরু করলো। আকাশ পরিস্কার। একটা বাঁকের কাছে চোখে পড়লো দুরে এক পাহাড়ের শৃঙ্গ। বিকেলের পড়ন্ত রোদের আলোয় মনে হচ্ছে কেউ সোনা গলিয়ে ঢেলে দিয়ে গেছে। মন জুড়িয়ে গেল। দুদিনের কিছু না দেখার কষ্ট ভুলে গেলাম। কেউ বললো ওটাই নাকি কাঞ্চনজঙ্ঘা। এত ঝকঝকে গলন্ত সোনা মাখা অবস্থায় তাকে দেখতে পাব আশা করিনি।

শিলিগুড়ি পৌঁছালাম তখন রাত সাড়ে দশটা নাগাদ। আমরা চারজন বাস থেকে নামলাম। স্থানীয়রা অনেক আগেই নেমে গেছে। খিদেতে পেট চোঁ চোঁ করছে। এখানে তখনও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। দুরে দেখলাম একটা ধাবায় আলো জ্বলছে।

গিয়ে দেখি ধাবাওলা বন্ধ করার তোড়জোড় করছে। খাবারের কথা বলতেই বলল আর কিছ্ছু নেই। কয়লার উনুন তখন নিভু নিভু। আমাদের অবস্থা দেখে ওর দয়া হল। কর্মচারীটিকে জিজ্ঞেস করলো হ‍্যাঁরে কিছু পড়ে আছে? জবাব এল অল্প তড়কা আর আটা মাখা যা আছে তা দিয়ে খান পনেরো রুটি হতে পারে। তাই সই।চার জনে বসলাম। নিভু নিভু আঁচের গরম রুটি আর সামান্য তড়কা অমৃত লাগছিল। সঙ্গে কয়েকটি কাঁচা পেঁয়াজ ফাউ পেলাম। রাত প্রায় তখন সাড়ে এগারোটা। শিলিগুড়ি বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটা লজে দোতলায় জায়গা পেলাম।

পরের দিন সকাল দশটায় রাজ‍্য সরকারি ট‍্যুরিজিমের বাসে দুদিনের জলদাপাড়া ও ফুন্টশোলিং সফরে বেরিয়ে পড়লাম। জলদাপাড়ায় সুন্দর একটা কটেজে আমাদের রাখা হলো। চারিদিকে জঙ্গল। মন ভরে গেল। পরের দিন ভোরবেলা হাতি সাফারি। খুব এক্সাইটেড। জীবনে প্রথমবার হাতির পিঠে উঠবো। চিড়িয়াখানা আর সার্কাস ছাড়া হাতের কাছে হাতি কোথায় পাব! হাতির পিঠে ওঠার জন‍্য স্ট‍্যান্ড রয়েছে। বাসস্ট্যান্ডের মতো হাতিস্ট‍্যান্ড। সিঁড়ি দিয়ে উঠে চড়ে বসলাম। রাজা বাদশার মত। হাওদার ওপরে চারজন এদিকে ওদিক মুখ করে। গন্ডার দেখতে চললাম। হেলেদুলে গজরাজ চলেছেন।

মাহুত নিজেই গাইড। হাতে অঙ্কুশ। দুপায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে গজরাজের কানের নিচের অংশে ঠেকিয়ে চেপে ধরে তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।যেন গাড়ির স্টিয়ারিং। অঙ্কুশটি কাজে লাগে ইমার্জেন্সি ব্রেকের সময়। মাহুত বললো হঠাৎ যদি রাস্তায় বাঘের সামনে পড়ে যায় গজরাজ এলোমেলো দৌড় শুরু করবে। তখন ব‍্যবহার হয় অঙ্কুশ। তাকে বাগে আনতে। কি বলছো ভাই ! এখানে বাঘও আছে নাকি ? উত্তরে মাহুত বলল “জঙ্গলকে বিশ্বাস করা যায়না ভাই। কে থাকবে আর কে থাকবেনা এমন কোনো লিখিত নিয়ম প্রকৃতির নেই। ছোট ঝোপেও বাঘ থাকতে পারে সুতরাং সবসময় সাবধান। জঙ্গলের নিয়ম আলাদা। এটা শহরের পার্ক নয়। গজরাজ চলেছেন। বাঁধা রুট। কখনো ছোট খাল পেরিয়ে। অর্ধেক জলে ডুবে। যেতে যেতে শুঁড় বাড়িয়ে পাতালতা টেনে চিবতে চিবতে যাচ্ছে। কখনো বিরাট লম্বা লম্বা ঘাসের ভিতর দিয়ে।

এগুলোকে “এলিফ্যান্ট গ্রাস” বলে। কোনো সময়ে আমাদের গায়ে লাগছে, মাথা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তেনার দেখা নাই। কোথায় গন্ডার। একঘন্টা চষে ফেলা হল একটা গন্ডারের দেখাও মিললনা। মাহুত কাম গাইড শুধু গন্ডারের বিষ্ঠা দেখালো। মানে ওরা ছিল এবং আছে। গভীরে। ‘গভীরে যাও আরও গভীরে যাও’। না, সেটি হবার উপায় নেই। রুট ও টাইম ফিক্সড। গোটা কয়েক ময়ুর, অচেনা পাখি দেখে ফিরতে হল, সঙ্গে জঙ্গলে ঘোরার রোমাঞ্চ। জলখাবার খেয়ে কটেজে ফিরলাম। স্নান খাওয়া সেরে তাড়াতাড়ি রেডি হতে হবে। ভুটান গেটে নিয়ে যাবে। স্নান করতে গিয়ে চমকে উঠলাম। সাবান হাতে ঘাড়ের কাছে কিছু একটা ঠেকলো। বন্ধু রতনকে ডাকলাম দেখতো ঘাড়ের কাছে কি রয়েছে। ও এসে একটা কাঠি দিয়ে ঝটকায় যে দুটো জিনিস ফেলল তার অভিজ্ঞতা ছিলনা। জোঁক। দু দুটো। রক্ত চুষে টইটুম্বুর। কেয়ারটেকার বলল ওখানের জঙ্গলে অনেক জোঁক আছে। জঙ্গলের ঘাস থেকে ঘাড়ে লেগে গেছে।

মানে এই এতক্ষণ ধরে ঘাড়ে বসে আয়েশ করে আমার রক্ত খাচ্ছিল ওরা! টেরও পাইনি। রক্ত চোষাদের অস্তিত্ব চট করে বোঝা যায়না আর টেরও পাওয়া যায়না কিভাবে চুষে নিচ্ছে। শোষণ যেন সর্বত্র!

ফুন্টশোলিং ঢোকার গেটে মনে হচ্ছিল আমারা সত্যিই বিদেশে এসে গেলাম বিনা পাশপোর্ট ভিসাতে। পায়ে মেড ইন চায়নার জুতো আর সামনে ওয়েলকাম টু ভুটান। বাস একঘন্টা থাকবে। তারমধ্যে ঘুরে ফিরে দেখার । দুরে একটা প‍্যাগোডা। কয়েকজন মেরুন রঙের কাপড় পরা বুদ্ধিস্ট মঙ্ক দেখলাম। ফর্সা ফর্সা ছেলে মেয়েরা যাওয়া আসা করছে। ছেলেরা স্কার্টের মতো পোষাক পরেছে। মেয়েদের পোষাকও ভিন্ন। ভুটানী মেয়েদের কি সুন্দর দেখতে লাগছিল।

হাঁ করে কিছুক্ষণ তাদের দেখা হল। তারা পাত্তাই দিলনা। সে না দিক তবে ‘মোমো’ ও ‘পর্কের’ সিঙাড়া বলে কিছু যে খাদ্য হয় ওখানে খেয়ে জানতে পারলাম। ভুটানের মাটিতে। রাতে শিলিগুড়িতে ফেরত। পরের দিন সকালে কলকাতার ট্রেন। হোটেলে জুতো মোজা খুলতেই চোখ ছানাবড়া। হায়রে কপাল!হংকং মার্কেটের সাধের “বিদেশি” জুতোর ভিতরে “মেড ইন চায়না” ছাপ উধাও, আর সেই জায়গায় জ্বলজ্বল করছে “ভারত সু কোং”। তবে হ‍্যাঁ, জুতোটা অনেক বছর চলেছিল। খুবই টেকসই ছিল। যতই হোক আমাদের দেশের তৈরি জিনিসতো।

#storyandarticle


Post a Comment